“অধীর চৌধুরী বিজেপির এক নম্বর লোক”: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বেঙ্গল ওয়াচ ডেস্ক ::সাগরদিঘি উপনির্বাচনে হারের পর ফের একবার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী কে একহাত নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

 

রবিবার মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের সঙ্গে বৈঠক করে মমতা বলেন, আরএসএস ও সিপিএমের সঙ্গে পরিকল্পনা করে সাগরদিঘির ভোট করেছেন অধীর চৌধুরী।

এখানই শেষ নয় কংগ্রেসকে নিশানায় মমতা বলেন, কংগ্রেস এত বড় বড় কথা বলে তাঁদের দলের প্রদেশ সভাপতি অধীর চৌধুরী বিজেপির এক নম্বর লোক। তিনি বলেন, সাগরদিঘিতে অনৈতিক লড়াই করেছে কংগ্রেস। লোকটা কার? বিজেপির, প্রার্থী কার? কংগ্রেসের, আর সমর্থন করা? সিপিএমের!

বাম-কংগ্রেস-বিজেপিকে একযোগে নিশানা করেন মমতা। রাহুল গান্ধীকেও একহাত নেন. একহাত নেন অধীর চৌধুরীকেও। মমতা বলেন, রাহুল গান্ধী যতদিন থাকবেন, ততদিন মোদীকে কেউ খারাপ ভাববে না। তাই রাহুলকে নেতা বানানোর চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। এ প্রসঙ্গে মমতা বলেন, আমি দিল্লিতে তোমার সঙ্গে দোস্তি করব, আর এখানে তুমি বিজেপির সঙ্গে মস্তি করবে!

মমতা বলেন, আমি বিজেপির কাছে মাথা নত করিনি। কংগ্রেস বিজেপির কাছে মাথা নত করেছে। অধীর চৌধুরী তো এ রাজ্যে বিজেপির এক নম্বর লোক। তিনি বিজেপির হাত শক্ত করছেন। তৃণমূলের বিরোধিতা করতে গিয়ে বিজেপিকে সমর্থন করছে পদে পদে। সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে হারের পর এমনই প্রতিক্রিয়া মমতার।

রবিবার তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুর্শিদাবাদের নেতা-বিধায়কদের নিয়ে ভার্চুয়াল সভা করেন। জেলার বিধায়ক, সাংসদ-সহ তৃণমূলের দুই জেলার সভাপতি, চেয়ারম্যানদের এই গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন। সাধারণত তৃণমূলের সাংগঠনিক সভায় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে রাশ টানা থাকে। কিন্তু রবিবারের দলীয় বৈঠকে সাংবাদিকদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়।

কলকাতায় নেতাদের সঙ্গে শুক্রবারের মুখোমুখি বৈঠকের পর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতে কেন নেতাদের নিয়ে ফের ‘দিদি’ বৈঠক করেন তা নিয়ে তৃণমূলের সর্বস্তরে কৌতূহল তৈরি হয়। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, শুক্রবার কালীঘাটের বৈঠক ফেরত এ জেলার নেতাদের মধ্যে সাগরদিঘির ভোট সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়। তার জেরেই এই টোলিফোনিক বৈঠক।

আর এই বৈঠকে অধীর চৌধুরীকে একহাত নিয়ে বিজেপির এক নম্বর লোক বলে জানানোর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেন তিনি। অধীর বলেন, তৃণমূলের থেকে ১৭ শতাংশ ভোট আর বিজেপির থেকে ১০ শতাংশ ভোট কংগ্রেসে এসেছে। তাই কংগ্রেস বিপুল জয় পেয়েছে।

তিনি বলেন, এই নির্বাচনের ফল প্রমাণ করে দিয়েছে তৃণমূলের প্রতি ও বিজেপির প্রতি সাগরদিঘির মানুষের মোহমুক্তি হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কাজ করে চলেছে। নিজে তো বিরোধী জোটে শামিল হননি, উল্টে বিরোধী জোটে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। শুধু মোদীকে খুশি করার জন্য তিনি বিরোধী জোটের বিরোধিতা করছেন।

অধীর চৌধুরী বলেন, দিদিকে ঠিক জায়গায় আঘাত করতে পেরেছি। তাই দিদির গাত্রদাহ হচ্ছে। সাগরদিঘি নির্বাচনে হারের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিটি গড়েছেন হারের কারণ জানতে, আবার নিজের দলের সাংসদদের কংগ্রেস-যোগের অভিযোগ করেছেন। তারপর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দুবার নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁকে বৈঠক করতে হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *