“এক ভোটের হারেই সব শেষ হয়ে যায় না”: বার্তা মমতার

বেঙ্গল ওয়াচ ডেস্ক ::সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের পরাজয় ঘটেছে তৃণমূলের।

 

 

তা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস মুষড়ে পড়েছে মুর্শিদাবাদে। এমনকী দলে ভাঙনও শুরু হয়ে গিয়েছে। সম্প্রতি খড়গ্রামে বিরাট ধস নামে তৃণমূলে। তারপর মুর্শিদাবাদ নেতৃত্বকে টেলিফোনিক বৈঠকে পঞ্চায়েতে ঘুরে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবার দলের ১৯ জন বিধায়ক ও দুই সাংসদকে নিয়ে দলীয় অফিসে টেলিফোনিক ভার্চুয়াল বৈঠকে বলেন, সাগরদিঘির বিধানসভা উপনির্বাচনে হারতে হয়েছে। তা বলে বসে থাকলে হবে না। এই পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী ভোটে সাফল্য আনতে হবে।

এদিনের ভার্চুয়াল বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ২৫ মিনিটের ক্লাসে মুর্শিদাবাদ জেলার নেতৃত্বের উদ্দেশে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দেন। সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন, সেই নির্বাচনে দলকে জেতাতে হবে বিরোধীদের সমস্ত চক্রান্ত ব্যর্থ করে। মনে রাখবেন একটা ভোটে হারেই সব শেষ হয়ে যায় না।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে সাগরদিঘি হারের কথায় স্পষ্ট তৃণমূলের হারের ক্ষত এখনও শুকোয়নি। তাই সাগরদিঘি হারের প্রসঙ্গ বারবার উঠে আসছে। একটা উপনির্বাচনে হার তৃণমূলকে নাড়িয়ে দিয়েছে। সেইজন্যই সাগরদিঘি হারের কারণ জানতে কমিটি গড়ে দিয়েছেন মমতা। কেন এই নির্বাচনে হার, তা জানতে তৃণমূল উৎসাহী।

হারের থেকেও বড় কথা সংখ্যালঘুরা তৃণমূলের পাশ থেকে সরে যাচ্ছে না কি না, তা জানা। এই অবস্থায় কালীঘাটে শীর্ষ বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আবার তার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে টোলিফোনিক বৈঠক করলেন মমতা। শীঘ্রই তিনি মুর্শিদাবাদে গিয়ে জনসভা করবেন বলেও জানিয়ে দেন।

এদিনের বৈঠকে মমতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন পঞ্চায়েত ভোটের আগে দলরে ভাঙ রোখা আর সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখা মুখ্য উদ্দেশ্য। তিনি স্পষ্ট করে গিয়েছেন সংখ্যালঘু ভোট ভাঙতে বিরোধীরা ভুল বোঝানোর চেষ্টা করছে। কুৎসা, অপপ্রচার করছে, তা থেকে সাবধান থাকতে হবে। একটা ভোটের ফল দেখে বসে থাকলে হবে না।

পঞ্চায়েত ভোটের আগে ব্লকে ব্লকে গিয়ে কাজ করতে হবে। পঞ্চায়েতে পঞ্চায়েতে যেতে হবে। মানুষের সঙ্গে থাকতে হবে। জনসংযোগ বাড়াতে হবে বলে নির্দেশ দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করতে হবে বলে তিনি জানান। সে জন্য তিনজনের কমিটিও গড়ে দেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইছেন সাগরদিঘি উপনির্বাচনে হারের পর নেতা-কর্মীদের মনোবল বাড়াতে। দলের মধ্যে যাতে ফাটল বড় আকার না নেয়, তা দেখাও দরকার। ইতিমধ্যেই খড়গ্রামে ধস নেমেছে তৃণমূলে। তা থেকেও সতর্ক করে দিয়েছেন মমতা। এদিন টেলিফোনের লাউডস্পিকার অন করে দলীয় নেতৃত্বের ক্লাস নেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *