“দিদিমণি গটআপ করে দিয়েছেন” : অর্জুন সিং

বেঙ্গল ওয়াচ ডেস্ক ::২০২২-এর মে মাসে ফিরে গিয়েছিলেন তৃণমূলে।

 

 

তারপর থেকে তিনি স্বাভাবিক পথেই তৃণমূলের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন, বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন। তবে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে দলের সংগঠন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তৃণমূলের অভ্যন্তরে অস্বস্তি বাড়িয়ে তুললেন ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং।

নিজের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত আমডাঙার এক সভায় অর্জুন সিং বিরোধীদের অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, বাবুল সুপ্রিয় বিজেপি সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। তিনি তৃণমূলে এসেও মন্ত্রী হয়েছেন। এর কোনও উত্তর তারা দিতে পারছেন না। দিদিমণি গটআপ করে দিয়েছেন বলেও মন্তব্যে করেছেন ব্যারাকপুরের সাংসদ। যা নিয়ে তৃণমূলের অভ্যন্তরে তৈরি হয়েছে অস্বস্তি।

আমডাঙায় দলে সাংগঠনিক ত্রুটি রয়েছে বলে স্বীকার করে নেন অর্জুন সিং। তিনি বলেছেন, এই ত্রুটি ঠিক করতে না পারলে ২০২৪-এর নির্বাচনে ফল ভুগতে হবে তৃণমূলকে। তিনি বলেছেন, সাগরদিঘিতে ১৭ টি বুথে শাসকদল তৃণমূলের কোনও এজেন্ট ছিল না। এব্যাপারে দলের নেতাদের আত্মবিশ্বাস আর অহংকারের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেছেন, ক্ষমতায় আছি বলে, পুলিশ তাদের কথা শুনবে এই ওভার কনফিডেন্স বামেদের মধ্যে এসেছিল ২০০৮ সালে। তারপর থেকে তাদের পতনের কথা সবার জানা।

অর্জুন সিং বলেছেন, প্রচারে বিরোধীরা এগিয়ে রয়েছে। আর তৃণমূল এগিয়ে রয়েছে দলের অভ্যন্তরে নেতাদের কোণঠাসা করতে। এই সভায় তৃণমূলের দমদম-ব্যারাকপুর জেলার সভাপতি তথা বরাহনগরের বিধায়ক তাপস রায় উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

তবে শুধু এখনই নয়, এর আগেও দলের বিরুদ্ধে মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে ২০২২-এর মে মাসে তৃণমূলে ফেরা অর্জুন সিংকে। সাগরদিঘিতে তৃণমূলের হারের পরেই তিনি বলেছিলেন, ফড়েদের কারণেই নির্বাচনে হার। দল থেকে ফড়েদের সরানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। দলে ফড়ে ছাড়াও তোলাবাজ শ্রেণি লোকেদের জায়গা দেওয়ার অভিযোগ তিনি করেছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ লোকেদের গুরুত্বহীন করে দেওয়ার কারণে পরাজয় বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
গতমাসে ভাটপাড়া তৃণমূলের ওয়ার্ড সভাপতিকে লক্ষ্য করে গুলি চালনার ঘটনায় তিনি বলেছিলেন অপরাধীদের রাজনৈতিক সিস্টেম থেকে সরাতে হবে। তিনি বলেছিলেন, অপরাধীরা যতদিন ভিতরে না থাকবে ততদিন এই ঘরনের ঘটনা ঘটতে থাকবে।
গতমাসের শেষের দিকে দত্তপুকুরে হওয়া কর্মীসভায় অর্জুন সিংকে পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে দলের কর্মীদের সতর্ক করতেও দেখা গিয়েছিল। তিনি বলেছিলেন গায়ের জোরে নয়, হাত জোড় করে মানুষের কাছে ভোট চাইতে যেতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *