“পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রার্থী ঠিক হবে কেন্দ্রীয়ভাবে – কোলকাতা থেকে” – মমতা

বেঙ্গল ওয়াচ ডেস্ক ::পঞ্চায়েত নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই তৃণমূলের আভ্যন্তরীণ সঙ্কট বাড়ছে।

 

 

 

বিশেষকরে প্রার্থী নির্বাচন করা নিয়ে। দলের নেতারা অনেকেই প্রকাশ্যে বলছেন, আঞ্চলিক নেতারা বিস্তর টাকা নিয়ে প্রার্থী ঠিক করে দিচ্ছে। এই বিষয়ে এবার কঠিন পদক্ষেপ নিলেন স্বয়ং মমতা। পঞ্চায়েতের প্রার্থী ঠিক হবে কেন্দ্রীয়ভাবে। অর্থাত্‍ কলকাতা থেকেই। ইতিমধ্যেই বহু জায়গায় বিধায়ক, জেলা সভাপতিরা প্রার্থী করার ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিচ্ছেন বলে খবর আছে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে। সেকথা উল্লেখ করেই তাঁদের সতর্ক করে দেন মমতা। দিদির সাফ কথা, ‘এমএলএ কাউকে বলে দিচ্ছে তুমি প্রার্থী হবে, জেলা সভাপতি বলে দিচ্ছে—এসব চলবে না।’ এদিনের বৈঠকে দলে প্রবীণ তথা অভিজ্ঞদের সঙ্গে নবীনদের সমন্বয় করে চলার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘যুব সংগঠন সক্রিয় হচ্ছে ভাল কথা। কিন্তু সংগঠন চালাতে অভিজ্ঞতাও চাই। রাজনীতিটাও বুঝতে হবে।’ এর মধ্যেই যেন একটা ইঙ্গিত খুঁজে পাচ্ছেন রাজনৈতিক মহল। মনে করা হচ্ছে মাদার তৃণমূল ও যুব তৃণমূলের মধ্যে কোনো সীমারেখা তিনি চান না। মূল দায়িত্ব মাদার তৃণমূলের হাতেই তিনি রাখতে চাইছেন।

তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করেই তা অস্বীকার করা হয়েছে। দিদি এভাবে সংগঠন হাতে তুলে নিচ্ছেন, তার মানে কি সংগঠনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুত্ব কমবে? তৃণমূলের পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, ব্যাপারটা মোটেই তা নয়। মমতা-অভিষেক সমন্বয় করেই সংগঠন চালাবেন। এদিন পুরনো সাংগঠনিক বন্দোবস্ত নতুন নামে ফিরিয়ে এনেছে তৃণমূল। তা হল জেলাওয়াড়ি দায়িত্ব বণ্টন। একটা সময়ে পর্যবেক্ষক ব্যবস্থা চালু ছিল। কিন্তু একুশের ভোটের কয়েক মাস আগে তা তুলে দিয়েছিল তৃণমূল। এদিন কিছু কিছু জেলায় কিছু কিছু নেতাকে ফের দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলাভিত্তিক পর্যবেক্ষক নির্বাচনের পিছনে অন্যতম কারণ ছিল শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর উপরেই প্রায় সাতটি জেলার দায়িত্ব ছিল।
অভিষেক নিজেও একাধিকবার বলেছেন, ‘পর্যবেক্ষক হয়ে ওই জেলাগুলো ভাঙানোর ছক কষা হয়েছিল সেটা আমি চিহ্নিত করেছিলাম বলেই আমার উপর এত রাগ।’

এদিনের বৈঠকে মমতা এই বার্তাও দিয়েছেন, দলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নেতৃত্ব বদল হবে। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। দিদি এও বোঝাতে চান, তিনি আছেন। কিন্তু অনন্তকাল যে তিনি থাকবেন তা বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি নয়। ফলে তাঁর পরেও দল থেকে যাবে। সূত্রের খবর, মমতা এদিনের বৈঠকে বলেছেন, ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পরে কি কংগ্রেস উঠে গিয়েছে? না থেমে গিয়েছে? তাই মমতার বক্তব্য তিনি থাকুন আর না থাকুন দল থাকবে। দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

দিদিকে বলো কর্মসূচি নিয়ে মমতা যে বেশ ক্ষুব্ধ তা তিনি স্পষ্ট করেই বলেন। দিদির সুরক্ষাকবচ কর্মসূচি নিয়েও এদিন নেতাদের ভর্ত্‍সনা করেন মমতা। দিদির কথায়, নেতারা গ্রামে যাচ্ছেন কিন্তু রাতে থাকছেন না। কেউ কেউ আবার গ্রামেও যাচ্ছেন না। বিডিও অফিসে চা খেয়ে চলে আসছেন। দলের বিভিন্ন বক্তব্য, ইস্যু টুইট করা না করা নিয়েও নেতাদের বকুনি শুনতে হয়েছে দিদির। যে সব নেতারা টুইট একেবারেই করেন না তার লম্বা তালিকা পড়েন মমতা। তাতে নাম রয়েছে ববি হাকিম, অরূপ বিশ্বাসেরও। ফলে এবার থেকে সমস্ত নেতাকে অনেক সচেতন হয়ে কাজ করতে হবে – সেই বার্তাই মমতা দিলেন সকলকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *