মিড ডে মিল নিয়ে রাজ্যকে চিঠি ইন্ডিয়ান অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্টের

বেঙ্গল ওয়াচ ডেস্ক ::মিড ডে মিল নিয়ে রাজ্যে কেন্দ্রীয় দল আসার পরে এবার সেই বিষয়েই স্পেশাল অডিট করতে রাজ্য সরকারকে চিঠি দিল ইন্ডিয়ান অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্ট। কেন্দ্রেয় ছয়জনের টিম ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে।

 

মিড ডে মিল নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের পরে গত জানুয়ারিতে রাজ্যে এসেছিল কেন্দ্রীয় দল। তবে সেই সময় বিরোধীরা বিশেষ করে বিজেপির তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল শিক্ষা দফতরের বাছাই করে দেওয়া স্কুলেই শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় দল গিয়েছিল। ফলে বাস্তব পরিস্থিতি সামনে আসেনি বলে অভিযোগ ছিল বিরোধীদের। তবে সেই পরিদর্শনের পরে রিপোর্ট জমা পড়ে।

ইন্ডিয়ান অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্ট ইতিমধ্যেই স্কুল শিক্ষা দফতরকে চিঠি পাঠিয়ে বলেছে, তারা মিড ডে মিল নিয়ে স্পেশাল অডিট করতে চান। কেন্দ্রের টিম জেলায় জেলায় ব্লকে ব্লকে ঘুরে মিড ডে মিলের টাকা কীভাবে খরচ করা হচ্ছে তা খতিয়ে দেখবে।

মিড ডে মিল নিয়ে স্পেশাল অডিট টিমে ছয়জন সদস্য রয়েছেন। নেতৃত্বে রয়েছেন সিনিয়র অডিট অফিসার অরিতিৎ মজুমদার। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা দিয়ে কাজ শুরু করেছে এই দল। এছা়ড়াও আরও চারটি জেলাকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

বিরোধীরা বিশেষ করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মিড ডে মিলে দুর্নীতির অভিযোগ করে কেন্দ্রের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় দলের পরিদর্শনের পরে এবার স্পেশাল অডিট শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকারি তরফে অবশ্য ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, এই কাজ প্রতিবছরই হয়ে থাকে। তাই এর মধ্যে কোনও বিশেষত্ব নেই। অন্যদিকে বিজেপির দাবি তাদের করা অভিযোগের পরেই এই স্পেশাল অডিট করা হচ্ছে।
এর আগে অবশ্য প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে রাজ্যে এসেছিল কেন্দ্রীয় দল।

পশ্চিমবঙ্গে অবশ্য মিড ডে মিল নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে পূর্ব মেদিনীপুরের মিড ডে মিলে টিকটিকির পরে শুয়োপোকা পাওয়া গিয়েছিল। ডালের বালতিতে পাওয়া গিয়েছিল সাপ। যা নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। ওই ফেব্রুয়ারিতেও মিড ডে মিল খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় কুলতলির স্কুলে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন অভিভাবকরা। মালদগের লক্ষীপুরে শিক্ষক আর ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মিড ডে মিল নিয়ে ভেদাভেদের অভিযোগ উঠেছিল। মিড ডে মিলের চাল ও ডালের বস্তা সঠিক জায়গায় না রাখার অভিযোগও উঠেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *