শান্তনুর স্ত্রীর ব্যবসায় মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ কালীঘাটের কাকু’র! 

বেঙ্গল ওয়াচ ডেস্ক ::নিয়োগ দুর্নীতিতে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

 

 

আর তাঁর গ্রেফতারির পরেই বিশাল সম্পত্তির হদিশ পেয়েছেন ইডির আধিকারিকরা। এমনকি রিয়েল এস্টেট ব্যাবসাতেও যে বিপুল টাকা শান্তনু ঢেলেছিলেন, সেই সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্যও ইতিমধ্যে ইডির হাতে এসেছে।

তবে নজর ঘোরাতে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় স্ত্রীয়ের নাম রাখেন হুগলির বহিষ্কৃত তৃণমূলের যুব নেতা! আর সেই ব্যাবসায় কালীঘাটের কাকুর বিনিয়োগ!

চন্দননগর সত্যপীড়তলায় বহুতল নির্মাণ করছে ডি আই পি ডেভলপার সংস্থা। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই সংস্থার অন্যতম অংশীদার নিয়োগ দুর্নীতিতে গ্রেফতার হওয়া প্রাক্তন তৃণমূল যুবনেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও তাঁর নাম থাকলেও সবটা শান্তনুই দেখাশুনা করত বলে জানা গিয়েছে। খবর অনুযায়ী, ২০২০ সালে ডিআইপি ডেভেলপার চন্দননগর জিটি রোডের পাশে প্রায় ছয় কাঠা জমির উপর একটি বহুতল নির্মাণের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয় ওই সংস্থা।

এমনকী সেই বহুতল কেমন হবে, সেই সংক্রান্ত নক্সা দিয়ে বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়। আর তা দিয়ে বুকিংও শুরু হয়। এর মধ্যেই শান্তনুকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। আর এরপর থেকে কাজ অনেকটাই ধীর গতিতে এগোচ্ছে।

ইতিমধ্যে নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে এই কালীঘাটের কাকুরও। ইতিমধ্যে তাঁকে জেরাও করেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী আধিকারিকরা। যদিও এরপর ডাকা হলে তিনি আর তদন্তকারীদের মুখোমুখি হননি। তবে বিপুল পরিমাণ টাকা কোথা থেকে পেলেন সুজয়বাবু সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ইতিমধ্যে। যদিও এই বিষয়ে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ডিআইপি ডেভালপার সংস্থার অন্যতম অংশীদার ইন্দ্রনীল চৌধুরী জানিয়েছেন, তাঁদের তিন জনের সমান বিনিয়োগ রয়েছে সত্যপীরতলার প্রজেক্টে। কালীঘাটের কাকুর বিনিয়োগ প্রসঙ্গে ইন্দ্রনীল জানান, দোকান নেবেন বলে অগ্রিম দিয়েছিলেন। শান্তনু ১০ লাখ টাকা লোন নিয়েছিলেন। সেই সংক্রান্ত সব তথ্য ইডিকে দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগ দুর্নীতিতে প্রথম সুজয় ভদ্রের নাম সামনে আনেন ধৃত তাপস মণ্ডল। পরবর্তীকালে একাধিক সাক্ষাৎকারে সুজয় কৃষ্ণ ভদ্র জানিয়েছিলেন, তিনি কুন্তলকে চেনেন না কিন্তু শান্তনুকে চেনেন। অথচ সেই শান্তনুর স্ত্রীর সংস্থাতেই টাকা বিনিয়োগ করেছেন সুজয় ভদ্র! সূত্রের খবর চুঁচুড়া চন্দননগর হাওড়ার মুন্সির হাট সহ আরও একাধিক জায়গাতে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে শান্তনুর স্ত্রীর নামে। তবে এই বিষয়টি সামনে আসার পরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। নিয়োগ দুর্নীতির কালো টাকা কি সাদা করা হয়েছে এভাবেই? প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *