শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য বলাগড় তৃণমূল ব্লক সভাপতির!

বেঙ্গল ওয়াচ ডেস্ক ::প্রতিবাদ করলে সেই সময় খুন হয়ে যেতাম!

নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বলাগড় তৃণমূল ব্লক সভাপতির। শুধু তাই নয়, ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে রত্না দে নাগ এর মত প্রার্থী শান্তনুর জন্যেই হেরেছে বলেও এদিন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন ওই তৃণমূল নেতা। নিয়োগ দুর্নীতিতে ইতিমধ্যে শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছে ইডি। আর তাঁর গ্রেফতারের পরেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। আর এর মধ্যেই কার্যত বোমা ফাটালেন খোদ বলাগড় তৃণমূল ব্লক সভাপতি।

আজ বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসের বলাগড় ব্লক সভাপতি নবীন গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, নিজের হাতে ক্ষমতা রাখতে বুথ জ্যাম করত শান্তনু। কিন্তু মানুষের উপর অত্যাচার হবে সেটা কখনোই তৃণমূল কংগ্রেস বরদাস্ত করে না বলে দাবি নবীনবাবুর। শুধু তাই নয়, তখন শান্তনুদের সঙ্গে একটা বিভেদ তৈরী হয়েছিল। এমন পরিস্থিতি এটা তৈরী হয়েছিল যে কোনও সময় আমি খুন হতে পারতাম। আর তাই আমি নিজে সরে গিয়েছিলাম বলে দাবি এই তৃণমূল নেতার।

কিন্তু সেই সময়ে কেন কোনও কথা বলেননি নবীনবাবু! সেই প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, কারন একটাই! ২০০৮ সাল তখন সিপিএম এর রাজত্ব। আমার সঙ্গে লড়াই করতে না পেরে বামপন্থীরা আমার ভাইকে মেরে দিয়েছিলো। এখন পরিবারে আর্নিং মেম্বার আমি একা। তাই পারিবারিক পিছুটানে কিছু বলতে পারি নি। পরিবারকে সুরক্ষিত রাখাটা আমার কাছে সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে জানিয়েছেন ওই তৃণমূল নেতা।

নবীনবাবুর কথা মতো, বলাগড় বরাবরই সবুজ মাটি। বামপন্থী সময়েও শ্রীপুর বলাগড় পঞ্চায়েত তৃণমূল বোর্ড গঠন করত। কোনও ঝামেলা হত না বলে দাবি তাঁর। এমনকি একটা পুলিশেরও প্রয়োজন হত না বলে দাবি ওই তৃণমূল নেতার। কিন্তু ২০১৮ তে প্রায় চারশো পুলিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরেও
খানকুল, আরামবাগ, পুরশুরা থেকে সমাজ বিরোধীদের এখানে আনা হয়েছিল বলে বিস্ফোরক দাবি নবীন গঙ্গোপাধ্যায়ের। শুধু তাই নয়, সমাজ বিরোধীদের উপস্থিতিতেই তারা তাঁদের ইচ্ছেমত বোর্ড গঠন করেছিল। ফল স্বরূপ ২০১৯ সালে রত্না দে নাগের মত প্রার্থী হেরে গিয়েছিলেন বলে দাবি তাঁর। আর সেটা আমাদের কাছে লজ্জার ছিল বলেও দাবি তৃণমূল নেতার।

এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বলাগড় তৃণমূল ব্লক সভাপতির দাবি,
২০১৮ সালের ঘটনা মানুষ মেনে নেননি। তৃণমূল কংগ্রেস যে এমন ভাবে মানুষের উপ অত্যাচার করতে পারে তা ভাবতে পারেনি বলে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ওই তৃণমূল নেতা। তবে এজন্যে শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত কিছু লোককেই দায়ী করেছেন ওই নেতা। তাঁর মতে, এই সমস্ত লোক সাড়া পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে যা করছে তাতে বদনাম হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের। ফলে এই বিষয়ে দলকেও কিছুটা সতর্ক করে দেন নবীন গঙ্গোপাধ্যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *