কেন গ্রেফতার জ্যোতিপ্ৰিয়?

বেঙ্গল ওয়াচ নিউজ ডেস্ক ::

 

 

 

 

ইডি সূত্রে জানা যাচ্ছে, জ্যোতিপ্ৰিয় মল্লিককে গ্রেফতার করা হয়েছে মূলত তদন্তে সহযোগীতা না করার জন্য। ৩ টে ২২ মিনিটে গ্রেফতার করে বাড়ি থেকে বের করা হয় বনমন্ত্রী বালুকে। এরপর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় সিজিও কমপ্লেক্সে। মূলত বাকিবুর রহমানের গ্রেফতারির পর থেকেই রেশন দুর্নীতি মামলায় মন্ত্রীর নাম সামনে আসতে শুরু করে। ঘটনা চক্রে জানা যায়, বাকিবুরের যে ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তির খোঁজ পাওয়া গেছে, তার সবটাই রেশন দুর্নীতি থেকে বলেও ইডির ধারণা। আর তখন রেশন মন্ত্রী ছিলেন জ্যোতিপ্ৰিয় মল্লিক।
শুধুমাত্র একজন মন্ত্রী নন, তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের সৈনিক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চলছে শুনে উদ্বেগ প্রকাশ করেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমন একজন হেভিওয়েট রাজনীতিককে ইডি গ্রেফতার করল ভোরের আলো ফোটার আগেই। কিন্তু কোন অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হলো?

সূত্র মাধ্যমে জানা যাচ্ছে, তাঁকে গ্রেফতারের প্রধান কারণ তদন্তে সহযোগীতা না করা। রেশন দুর্নীতি মামলায় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬ টা থেকে ম্যারাথন তল্লাশি চালানোর পরও তাঁকে গ্রেফতার করার কোনও সিদ্ধান্ত নেননি তদন্তকারী আধিকারিকরা। রাত ১২ টা পর্যন্তও তেমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, মন্ত্রীর বাড়ির সমান্তরালে তল্লাশি চলছিল তাঁর আপ্তসহায়ক অমিত দে-র বাড়িতেও। অমিত দে-কে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় বেশ কিছু তথ্য জানতে পারেন ইডি অফিসাররা। সেই তথ্য খতিয়ে দেখার জন্য রাত ১২ টার পর নতুন করে প্রশ্ন পর্ব শুরু হয় মন্ত্রীর বাড়িতে। জানা যাচ্ছে, সেই সব প্রশ্নের উত্তর দিতে বেজায় আপত্তি ছিল জ্যোতিপ্রিয়র। তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগও সামনে আসে। এরপর ইডি আধিকারিকরা পুরো বিষয়টা জানান দিল্লিতে সংস্থার সদর দফতরে। তারপরই মন্ত্রীকে গ্রেফতার করার জন্য তোড়জোড় শুরু হয়। ইডির ষড়যন্ত্র হোক আর না হোক, একটি দলের নেতা মন্ত্রীরা একে একে জেলে ঢুকছে, এটা বাংলার লজ্জা। স্বাধীন বাংলায় এমন ইতিহাস আর নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *