ইডি হেফাজতে জ্যোতিপ্রিয়

বেঙ্গল ওয়াচ নিউজ ডেস্ক ::

 

 

 

নিজেদের হেফাজতে মন্ত্রীকে নিতে চেয়েছিলেন ইডি আধিকারিকরা। ৬ নভেম্বর পর্যন্ত ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হল বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে। দীর্ঘ সওয়াল জবাবের পর বিচারক এই নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে আদালতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন রাজ্যের বনমন্ত্রী। তিনি জ্ঞান হারিয়েছিলেন।

দীর্ঘ ম্যারাথন জেরার পর গ্রেফতার করা হয়েছিল জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে। ২৪ ঘন্টার মধ্যেই তাকে আদালতে তোলা হয়। তার আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জোকার হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়েছিল মন্ত্রীর। শুক্রবার দুপুরের পরে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে মন্ত্রীকে তোলা হয়েছিল। একাধিক বক্তব্য ইডির তরফে রাখা হয়।

কী কারণে মন্ত্রীকে ধরা হয়েছে? সেই প্রশ্ন ইডির আইনজীবীকে করেন বিচারক। শুধু তাই নয়,তাকে কোনও শারীরিক ও মানসিক হেনস্থা করা হয়েছে কি? সেই প্রশ্ন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে করেন বিচারক। গ্রেফতারের সময় তাকে কোনও কাগজ দেওয়া হয়েছে? কী কারণে গ্রেফতার করা হয়েছে? সে বিষয়ে কিছু বলা হয়েছে? এইসব প্রশ্ন করা হয়।

কী কারণে বনমন্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে? সেই প্রশ্ন আদালত করে। বাকিবুর রহমানের সঙ্গে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের যোগাযোগ রয়েছে। দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে পরিবারের সঙ্গে। এই কথা বলেছে ইডি। শুধু তাই নয়, তিনটি সংস্থা তৈরির ব্যাপারে জানা গিয়েছে। তার স্ত্রী ও মেয়ে ওই দুই সংস্থায় ডিরেক্টর পদে রয়েছেন। তিনটি সংস্থায় বড় অঙ্কের টাকা লগ্নি হয়েছিল। ওই সংস্থার অনেকগুলি স্ট্যাম্প পেপার বাড়িতে পাওয়া গিয়েছে। মন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। একথাই জানায় ইডি।

বিচারকের বক্তব্য, মন্ত্রীর স্ত্রী ও মেয়ে সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। তাই কাগজপত্র বাড়িতে পাওয়া যেতেই পারে। বিচারক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের শারীরিক অবস্থার কথা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। মন্ত্রী জানিয়েছেন, তার সুগার রয়েছে। প্রতিদিন দশ হাজার পা হাঁটার নির্দেশ রয়েছে ডাক্তারের।

ইডি আধিকারিকরা চাইছিলেন মন্ত্রীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে নিজেদের হেফাজতে চাওয়ার দাবি আদালতে জানানো হয়। দীর্ঘ সওয়াল জবাব শেষে ইডি হেফাজতে মন্ত্রীকে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৬ নভেম্বর পর্যন্ত ইডি হেফাজতে বনমন্ত্রীকে থাকতে হবে। এই নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আদালত ইডিকেও বেশ কিছু বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছে। মন্ত্রীর স্বাস্থ্যের কথা বিচার করা হয়েছে। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে বাড়ির খাবার দিতে হবে৷ বাইরের কোনও খাবার দেওয়া যাবে না। প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে সময় মন্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে। ওইসময় তিনি তাঁর আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *