এখন তো টলিপাড়া আর তৃণমূল প্রায় সমার্থক

বেঙ্গল ওয়াচ নিউজ ডেস্ক ::

 

 

 

 

একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে একদম দক্ষিণ ভারতের কায়দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুরো টলিপড়াকে নিয়ে এসেছেন তাঁর ছত্রছায়ায়। এমন অবস্থা কিন্তু আগে ছিল না। আগে শিবির খুব স্পষ্ট ছিল। অভিনয় বা খেলার জগতের মানুষ যদি রাজনীতিতে আসে তাহলে আখেরে ক্ষতি হবে অভিনয় বা খেলার। কারণ যদি তাঁরা কোনো জন প্রতিনিধি ( পৌর প্রধান, বিধায়ক, সাংসদ বা মন্ত্রী ) হন, তাহলে তাঁদের মানুষের জন্য সর্বক্ষণ সময় দিতে হবে। যদি বাস্তবে সেটা তাঁরা করতে যান তাহলে অভিনয় বাদ দিতে হবে। আর যদি জন প্রতিনিধি হয়েও অভিনয় চালিয়ে যান তাহলে মানুষ পরিষেবা পাবে না। এই দুই এর মাঝে কোনোভাবে কোনো সমঝোতায় সম্ভব না।

এবার প্রশ্ন – হঠাৎ এমন কি হলো যে ঝাঁকে ঝাঁকে বিনোদন জগতের মানুষ এসে ভিড় করা শুরু করলো শাসক দলের ছাতার তলায়? রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা এর পিছনে একাধিক কারণ খুঁজে পেয়েছেন। যেমন –

১) ইনডাস্ট্রিটে নিজের প্রভাব ও প্রতিপত্তি বাড়ানো।
২) প্রচুর কাজ পাবার সুবিধা।
৩) সরকারের সঙ্গে থাকলে অন্যান্য অনেক সুবিধা ও স্টেজ শো পাওয়ার সুযোগ।
৪) ভালো ভাতা পাওয়া – ইত্যাদি তো আছেই। আরো আছে দলে না আসলে হাতে কাজ আসবে না – এমন ভয়।
৫) সর্বপরি তৃণমূলে একই পদে একাধিকজন দাবিদার থাকে। যদি মুখ্যমন্ত্রী যেকোনো একজনকে টিকিট দেন, তাহলে অবধারিত বাকিরা নির্দল হয়ে দাঁড়িয়ে পড়বেন। সেই ভয়েই মুখ্যমন্ত্রীর এই রণকৌশাল।

এবার এক ঝালকে দেখে নেওয়া যাক,এই মুহূর্তে টলি পাড়ার কারা ভাবনীপুরের লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।

এই তালিকায় দেব-মিমি-নুসরত আছেই, টেলিভিশনের পর্দায় মিঠাই চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা সৌমিতৃষা কুন্ডুও আছে। গায়ক নচিকেতা তো মমতাকে আদর্শ কমিউনিস্ট বলেছেন। তৃণমূলের যুব সংগঠনের সভানেত্রী সায়নী ঘোষও একই লাইনে।

এছাড়াও ওই লাইন বেশ বড়ো।
আছেন অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিনেতা- পরিচালক অরিন্দম শীল(দল পাল্টে),পরিচালক সুদেষ্ণা রায়। আছেন অভিনেতা ভরত কল, সাহেব চট্টোপাধ্যায়, রানা মিত্র ও ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়ও । আরো আছেন অভিনেত্রী সুদীপ্তা বন্দ্যোপাধ্যায় বক্সী, শ্রীতমা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নীল-তৃণা জুটিও।

আর এদের প্রথম সারিতে জায়গা পেয়েছেন সাংসদ দেব, বসিরহাটের সাংসদ নুসরত জাহান, যাদবপুরের সাংসদ মিমি চক্রবর্তী, উত্তরপাড়ার বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক, চণ্ডীপুরের বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী, সোনারপুর দক্ষিণের বিধায়ক লাভলি মৈত্র প্রমুখ। আর রাজ্যের দুই মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেন এবং বাবুল সুপ্রিয়।
লাইন দীর্ঘ। এরা কেউ কিন্তু নিজস্ব পেশা ত্যাগ করেন নি । ফলে মানুষের পরিষেবায় যথাযথ সময় দিতে পারছেন না। অবহেলিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *