বিক্রম, প্রজ্ঞানের কী ঘুম ভাঙবে?

বেঙ্গল ওয়াচ নিউজ ডেস্ক ::

 

 

 

 

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণায় একটি চিস্মিরণীয় দিন ২৩ আগস্ট। ২৩ অগাস্ট চাঁদে সফল ভাবে সফট ল্যান্ডিংয়ের পর ল্যান্ডার বিক্রম ও রোভার প্রজ্ঞান বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছে চাঁদের মাটিতে। প্রচুর তথ্য পেয়েছে ইসরো। কিন্তু তারপর চাঁদে রাত নেমে আসলে ইসরো ১৪ দিনের জন্য ওদের ঘুম পাড়িয়ে দেয়। গত তিনদিন হলো চাঁদে সৌরদিন শুরু হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিক্রম ও প্রজ্ঞানের ঘুম ভাঙাতে পারে নি ইসরো। ফলে দুশ্চিন্তায় ১৪০ কোটি ভারতবাসী। সূর্যের আলো পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরো প্রজ্ঞান রোভার ও বিক্রম ল্যাণ্ডারকে জাগানোর মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যাতে আবার তারা সংকেত পাঠাতে শুরু করে ইসরোকে। তবে এখনও কোনও সংকেত মেলেনি।

২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর ঘুম ভাঙানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। প্রসঙ্গত ৬১৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে এই মিশনের জন্য। বিত্তশালী দেশগুলির তুলনায় এই খরচ নেহাত কমই। আর চন্দ্রযান-৩ যদি আবার জেগে উঠতে পারে তবে তা হবে বিজ্ঞানীদের জন্য ডবল বেনিফিট। কিন্তু সেই সুফল কী নেওয়া যাবে? এই নিয়ে ইসরো চিফ সোমনাথ বলেন, “চন্দ্রযান-৩-এর যন্ত্রপাতিগুলির বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফের তা জেগে উঠতে পারবে কি না তা নির্ভর করছে যন্ত্রপাতিগুলির ক্ষমতার উপর। হপ এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে এই মিশন থেকে দ্বিগুণ লাভবান হয়েছি আমরা। হপ এক্সপেরিমেন্ট থেকে আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। আমরা সবসময় অন্যদের থেকে আলাদা পথে হেঁটেছি, অন্বেষণ করেছি, পরীক্ষা করেছি। সাফল্য পেয়েছি অনেক।” তবে ওখানেই শেষ নয়। ইসরো চাইছে ঘুম ভেঙে আবার কাজ শুরু করুক ওরা।

ইসরোর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, যদি চাঁদের মাটিতে অসম্ভব ঠান্ডা তাপমাত্রা সহ্য করে ল্যান্ডার বিক্রম এবং রোভার প্রজ্ঞানের সমস্ত যন্ত্রপাতি সঠিক অবস্থায় থাকে, তাদের কর্মক্ষমতা বজায় থাকে, তবে ফের একবার পৃথিবীতে সিগন্যাল পাঠাতে সক্ষম হবে চন্দ্রযান-৩। সেই সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ।’ আর যদি পুনরায় জেগে উঠতে না পারে চন্দ্রযান-৩? সে উত্তরও দিয়েছেন স্পেস অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের ডিরেক্টর। তাঁর কথায়, ‘ভারতের চন্দ্রযান মিশন তার কাজে ইতিমধ্যেই সফল।’ আমরাও বিশ্বাস করি আবার ওরা জেগে উঠবে। হাসি ফুটবে ভারতবাসীর মুখে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *