বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মন্দির

বেঙ্গল ওয়াচ নিউজ ডেস্ক ::

 

 

 

 

 

আপনি কি জানেন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মন্দিরটি কোথায় অবস্থিত? আপনি হয়তো ভাবছেন এটি হিন্দু জনবহুল দেশ ভারতে অবস্থিত। কিন্তু এটি ভারতে অবস্থিত নয়।

সম্প্রতি আমারিকার নিউ জার্সিতে উদ্বোধন করা হয়েছে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম হিন্দু মন্দির। এই মন্দিরের নাম স্বামী নারায়ন অক্ষরধাম। ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর মন্দিরটি উদ্বোধন করা হয়। নিউ জার্সি রঙিন গ্রীন সিটির ১৮৫ একর জায়গা জুড়ে মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়। ১৯১ ফুট উঁচু এই মন্দিরটি। এই মন্দির শুধু উপাসনালয় নয়। হিন্দু শিল্প, স্থাপত্য ও সংস্কৃতির এক অন্যতম মাইলফলক। প্রায় সাড়ে বারো হাজার স্বেচ্ছাসেবক ও হাজার হাজার কারিগর দীর্ঘ ১২ বছর ধরে এই মন্দির নির্মাণ করেছেন। ২০০১ সালে এই মন্দির নির্মাণ শুরু হয়েছিল। গান্ধীনগর ও নয়া দিল্লির পর এটি বিশ্বের তৃতীয় অক্ষর ধাম মন্দির। এই মন্দিরে ভগবান স্বামী নারায়ন ও অন্যান্য হিন্দু দেবতাদের মোট ১৩টি মন্দির রয়েছে। এর স্থাপত্য ও কারুকার্যর মধ্যে প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়েছে। এখানে আছে ১০ হাজার দেব দেবীর মূর্তি। এছাড়াও আছে একাধিক প্রাচীন ভারতীয় বাদ্যযন্ত্র। এর পাশাপাশি এক নৃত্যরত যক্ষীর মূর্তি রাখা হয়েছে এখানে। উপাসনা কেন্দ্রের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও শিল্পের কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা হয়েছে এই মন্দিরকে।

হিন্দু ধর্মগ্রন্থ ছাড়াও আব্রাহাম লিংকন, কনফুসিয়াস, ভগবান বুদ্ধ, মীরাবাই, মার্টিন লুথার কিং সহ বিভিন্ন চিন্তাধারার ব্যক্তিদের বার্তা লেখা আছে এই মন্দিরে।

স্বামীনারায়ন অক্ষরধাম মন্দির একদিকে যেমন মার্কিন হিন্দু সম্প্রদায়কে তাদের ধৰ্মীয় অনুভূতিকে স্মরণ করিয়ে দেবে তেমনই স্থাপত্য ও সংস্কৃতির উৎসাহীদের কাছে মন্দিরটি জ্ঞান ও শিক্ষার কেন্দ্র।

আগামী দিনে এই মন্দিরে হিন্দু ধর্মের ইতিহাস ও সর্বজনীন মূল্যবোধের একটি জাদুঘর তৈরী করা হবে। আমেরিকার বুকে এমন হিন্দু স্থাপনা খুব কম আছে। মন্দিরটি ঘিরে সব ধর্মের মানুষের উৎসাহ চোখে পড়ার মতো।

ভারতীয় উপ মহাদেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আছে হিন্দু ধর্মের লোক। বিশ্বের মোট হিন্দুর ৯০ ভাগের বেশি বসবাস ভারতে। কিন্তু বাকি ১০ ভাগ সংখ্যায় কম নয়। তাই ইউরোপের অন্যত্র রয়েছে ছোট বড়ো অনেক হিন্দু মন্দির। তাই ইউরোপ আমেরিকায় প্রচুর সুন্দর হিন্দু মন্দির তৈরী হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *