পশ্চিমবঙ্গ দিবস ও গান নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নবান্নের বৈঠকে?

বেঙ্গল ওয়াচ নিউজ ডেস্ক ::পশ্চিমবঙ্গ দিবস নিয়ে আজ সর্বদল বৈঠকে যোগ দিল না বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিআইএম, সিপিআইয়ের মতো প্রথম সারির দলগুলি। নবান্নের সর্বদল বৈঠকে আড়াই ঘণ্টা ধরে আলোচনায় এলো না কংক্রিট কোনও ডিসিশন।

বৈঠকের শেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজকের আলোচনার ভিত্তিতে আসা নানা প্রস্তাব নিয়ে ৭ সেপ্টেম্বর বিধানসভায় আলোচনা হবে।

আজ সভার শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যের জন্য দিবস নিয়ে আমি নিজে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি না। সে কারণেই সকলকে নিয়ে এই ওপেন মিটিং ডাকলাম। আপনার আমাকে পছন্দ হতে পারে, নাও হতে পারে। এটাই গণতন্ত্র। আমি জানতাম বিজেপি চিঠি দেবে। ওদের বক্তব্য ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করতে হবে। যে দিনটা রাজ্যপাল করলেন।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, এমন দিন রয়েছে তা জীবনে শুনিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে দিয়ে নোটিফিকেশন করা হলো বাংলাকে না জানিয়ে। বাংলার ব্যাপার, বাংলা জানবে না! সিপিআইএম, সিপিআই চিঠি দিয়ে যে আজকের সর্বদল বৈঠক বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে তা যে তিনি ভালোভাবে নেননি তা স্পষ্ট করেন মমতা।

সিপিআইএম, সিপিআই-সহ বাম দলগুলির চিঠি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওরা বলছে এই দিনটা ঠিক করার অতি উৎসাহ কেন? অতি উৎসাহ এই কারণে যে, সময়ে প্রতিবাদ না করলে বেআইনি কিছুও আইন হয়ে যাবে, চিরস্থায়ী হয়ে যাবে। ২০ জুন যে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস নয়, তা আমরা কেন্দ্রকে চিঠি লিখে প্রতিবাদ জানিয়েছি। সব কিছুরই ইতিহাস রয়েছে।
এরপরই মুখ্যমন্ত্রী সকলের বক্তব্য শোনেন। সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্টদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সৌরভ (গঙ্গোপাধ্যায়)-কেও ডেকেছিলাম। সৌরভ বাইরে রয়েছেন। সকলের বক্তব্য মন দিয়ে শোনেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে সকলেই ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবসের কথা মানতে চাননি। বেশিরভাগের বক্তব্য ১ বৈশাখ পশ্চিমবঙ্গ দিবস হোক।

তবে নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি প্রস্তাব দেন, রাখিবন্ধনের দিনটিকে বেছে নিতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কথার মধ্যে কিছু বলতে গেলে নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি এদিন মমতাকে ধৈর্য্য ধরে শোনার যে কথা বলেন, সেটাও তাৎপর্যপূর্ণ। প্রাক্তন সাংসদ সুগত বসু প্রস্তাব দেন, রাজ্যের জন্য একটি সংগীত চূড়ান্ত করার জন্য। তিনি প্রস্তাব দেন, বাংলার মাটি বাংলার জল গানটিকে বেছে নেওয়ার।

এরপর ওই গানের কিছু শব্দ বদলের প্রস্তাব ওঠে। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যা হবে তাতে দেখতে হবে কোনও বিতর্কের অবকাশ না থাকে। তিনি প্রয়োজনে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ধন ধান্য পুষ্প ভরাকেও রাজ্য সংগীত করা যেতে পারে বলেন। অবশেষে ঠিক হয়, নবান্নে গান ও দিবসের বিষয়টি নিয়ে বিশিষ্টরা মতামত জানাবেন। ৭ জানুয়ারি তার প্রেক্ষিতেই আলোচনা হবে বিধানসভায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *