বিরাট বিপর্যয় সামলাতে কোন রণকৌশল কোহলি-রাহুলের?

বেঙ্গল ওয়াচ নিউজ ডেস্ক ::

 

 

 

 

চেন্নাইয়ের চিপকে এই প্রথম বিশ্বকাপের কোনও ম্যাচে পরাস্ত হলো অস্ট্রেলিয়া। ১৯৯ রানের পুঁজি নিয়েও ভারতকে চাপে ফেলে দিয়েছিলেন প্যাট কামিন্সরা। যদিও তাতেও রোখা যায়নি মেন ইন ব্লুকে।

২ রানে তিন উইকেট পড়ে গিয়েছিল। পুরুষদের একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এত কম রানে তিন উইকেট হারানোর পর ম্যাচ জেতার নজিরও এই প্রথম। একইসঙ্গে ভাইরাল হলো প্রায় ২ বছর আগে রোহিত শর্মার বক্তব্য।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে রোহিত বলেছিলেন আমি চাই ১০ রানে ৩ উইকেট, এমন পরিস্থিতির জন্য মিডল অর্ডার তৈরি থাকুক। তা যে বিশ্বকাপের আসরেই হবে তা আর কে জানতো! ভারত ২ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর নেটপাড়ায় ভাইরাল রোহিতের ওই বক্তব্য। তবে ইতিবাচক হলো, সেই পরিস্থিতি থেকে অজিদের বিরুদ্ধে জিতল ভারত।

ম্যাচের পর রোহিত বলেন, ম্যাচ জেতা ভালো অনুভূতি। বোলিং, ফিল্ডিং অসাধারণ হয়েছে। বিশেষ করে ফিল্ডিং। এই বিভাগে আমরা অনেক জোর দিয়ে থাকি। চেন্নাইয়ের মতো কন্ডিশন কঠিনই হয়। তবে সকলেই যে সাহায্য পাবে সেই বিশ্বাস ছিল। সিমাররা রিভার্স স্যুইং আদায় করেছেন। স্পিনাররা ভালো জায়গায় বল রেখেছেন। সবমিলিয়ে গ্রেট এফোর্ট।
ব্যাটিংয়ের শুরুতেই ধাক্কা এসেছিল, রোহিত স্বীকার করেছেন সেই সময় কিছুটা নার্ভাস হয়ে পড়ার কথা। তিনি বলেন, রান তাড়া করতে নেমে এমন শুরু কখনও কাম্য নয়। অস্ট্রেলিয়াকে কৃতিত্ব দিতে হবে। তবে কয়েকটি খারাপ শটও দায়ী। তবে এমনটা হতে পারে, যখন পাওয়ারপ্লেতে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করা হয়।

বিরাট ও রাহুল প্রসঙ্গে রোহিত বলেন, যেভাবে তাঁরা ম্যাচ জেতানো পার্টনারশিপ গড়েছেন তাতে দুজনের জন্য হ্যাটস অফ! ভারত খেলবে ৯টি আলাদা স্টেডিয়ামে। এরপর গন্তব্য দিল্লি। বিভিন্ন শহরের পিচের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া যে চ্যালেঞ্জিং, তা মানেন রোহিত। তিনি বলেন, প্রতিটি জায়গা আলাদা। সে কারণে একাদশে রদবদলও প্রয়োজনে আনতে হবে।

লোকেশ রাহুল জানান, কিপিং করে ড্রেসিংরুমে ফিরে তিনি স্নান সেরেছিলেন। ভেবেছিলেন অন্তত আধ ঘণ্টাও বসার সুযোগ পাবেন, কিন্তু তা হয়নি। ব্যাট হাতে নামতে হয় দ্বিতীয় ওভারের শেষেই। তিনি বলেন, মাঠে নেমে বিরাট কোহলির সঙ্গে খুব বেশি কথা হয়নি। বিরাট শুধু পরামর্শ দেন, প্রথমদিকে টেস্ট ক্রিকেটের মতো খেলতে, ক্রিকেটীয় শটেই ভরসা রাখতে।
রাহুল অপরাজিত থাকেন ৯৭ রানে। তিন রানের জন্য বিশ্বকাপ শতরান হাতছা়ড়া হলেও হতাশা নেই। রাহুলের কথায়, দলের জন্য এভাবে খেলতে পেরে ভালো লাগছে। শুরুর দিকে জোরে বোলাররা সাহায্য পাচ্ছিলেন। তবে পরের দিকে ডিউ ফ্যাক্টর হয়েছে। চিপকের উইকেটকে ভালো ক্রিকেটের পক্ষে উপযুক্ত বলেও চিহ্নিত করেন কেএল।

রাহুল বলেন, এই উইকেটে ব্যাট করার পক্ষে গ্রেট তা বলব না। আবার ব্য়াট করা কঠিনও ছিল না। দক্ষিণ ভারত, বিশেষ করে চেন্নাইয়ে এমন উইকেটই হয়। ছক্কা মেরে ভারতকে জেতালেন। তবে শতরান এলো না। ৪১ ওভারের শেষে ভারতের স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ১৯৫। জেতার জন্য দরকার ছিল ৫ রান।
লোকেশ রাহুল ৪২তম ওভারের প্রথম বলে রান নিতে পারেননি। দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকান, সেটিই উইনিং শট। এর ফলে রাহুল পৌঁছন ৯৭ রানে। তিনি বললেন, পরিকল্পনা ছিল প্রথমে চার মেরে, তারপর ছয় মেরে শতরান করার। আজ হয়নি, হয়তো অন্যদিন তেমনটা হবে।

অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ভারতীয় বোলিংয়ের প্রশংসা করে বলেন, আরও অন্তত ৫০ রান দরকার ছিল। বিরাট কোহলির মতো ক্রিকেটারের ক্যাচ মিস করার ঘটনাও দ্রুত ভুলতে চাইছেন। কে বলতে পারে, এই ক্যাচ মিসের ফলে ম্যাচ হাতছাড়া হলো আজ, পরে বিশ্বকাপও হাতছাড়া হবে না!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *