বিশ্বকাপের টিকিট নিয়ে বিভ্রান্তি চরমে

বেঙ্গল ওয়াচ নিউজ ডেস্ক ::

 

 

বিশ্বকাপের শুরু থেকেই টিকিটি নিয়ে বিভ্রান্তি চরমে। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকেই একের পর এক ম্যাচে দেখা গিয়েছে ফাঁকা স্টেডিয়াম। ভারতের ম্যাচ ছাড়া অন্য ম্যাচগুলিতে মাঠের অর্ধেক আসনও ভরছে না। যা অস্বস্তিতে ফেলেছে আইসিসি থেকে বিসিসিআইকে। এমনিতেই টি২০-র দাপটে এখন একদিনের ক্রিকেটে উৎসাহে ভাটা পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে টিকিট নিয়ে অব্যবস্থা দর্শকদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে।

ক্রিকইনফোর প্রতিবেদন অনুসারে টিকিট নিয়ে বিভ্রান্তি ও সমস্যার একটি‌ প্রতিবেদন তু‌লে ধরা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চেন্নাইতে ভারত অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের আগে অনেক ক্রিকেটপ্রেমীই সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন টিকিটের অব্যবস্থা নিয়ে। তাঁদের দাবি ছিল বুক মাই শো-(বিসিসিআইয়ের টিকিট পার্টনার)-এর ওয়েবসাইটে ম্যাচের টিকিট পর্যাপ্ত রয়েছে দেখানো হলেও সেই ‌টিকিট কাটা যাচ্ছে না। অথচ টিকিট নিঃশেষিত বলে ঘোষণা করা হচ্ছে।

গত ৫ অক্টোবর বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল নিউজিল্যান্ড-ইংল্যান্ড। কিন্তু নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম কার্যত ফাঁকা ছিল। যা চূড়ান্ত অস্বস্তিতে ফেলে বিসিসিআইকে। অথচ একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ৩০ থেকে ৪০ হাজার টিকিট বিনামূল্যে মহি‌লাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল। এমনকি তাদের জন্য খাবারেরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

তারপরেও মাঠমুখো হলেন না দর্শকরা। বিসিসিআইয়ের সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়েও কিন্তু প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এমনকি এত বিপুল সংখ্যক টিকিট কাদের মধ্যে বি‌নামূল্যে বিলোনো হল সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
মাঠ ফাঁকা থাকার একাধিক কারণ উঠে আসছে। তারমধ্যে অন্যতম দেরি করে সূচি ঘোষণা। ২৭ জুন বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণা করা হয়। ৯ অগাস্ট ফের পরিবর্তিত সূচি ঘোষণা করা হয়। ফলে সময় একটা বড় ফ্যাক্টর হয়ে গিয়েছে। কারণ এত অল্প সময়ের মধ্যে হোটেল বুকিং, যাতায়াতের বন্দোবস্ত করা সম্ভব হয়নি সাধারণ দর্শকদের পক্ষে।

কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে এ বারের বিশ্বকাপে যে ক’টি মাঠে ম্যাচ হচ্ছে তার মধ্যে ধর্মশালা বাদ দিলে বাকি সবক’টি শহরেই বেশ ভাল গরম। ফলে দুপুর রোদে কেউ খেলা দেখতে আসছেন না। যাঁরা আসছেন তাঁরাও চেষ্টা করছেন একটু ছায়া খোঁজার। একই অবস্থা লখনউয়েও। সেখানে অবশ্য গ্যালারি এতটাই ফাঁকা যে ছায়া খুঁজে নিতে অসুবিধা হয়নি। ম্যাচ শুরু হওয়ার সময়ে মেরেকেটে হাজার খানেক দর্শকও মাঠে ছিলেন কি না সন্দেহ।
একটি সর্বভারতীয় সাংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইডেনে ৩২ হাজার টিকিট সাধারণ দর্শকদের জন্য ছাড়া হয়েছে। চিপকে সেই সংখ্যা মাত্র ১৩ হাজার। বাকি টিকিট স্পনসর, সম্প্রচারকারী চ্যানেল, স্থানীয় প্রশাসনকে দেওয়া হচ্ছে।

বোর্ডের অব্যবস্থার কারণেই দর্শকেরা খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একে তো বোর্ড দেরি করে টিকিট ছেড়েছে। ফলে অনেকে হোটেল বা যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে পারেননি বলে টিকিট কাটেননি। তার উপর স্পনসরদের তরফে অনেকে টিকিট পেয়েও মাঠে আসছেন না।

কারণ যাই হোক, বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামে এক চিত্র খুব একটা ভালো বার্তা দিচ্ছে না। নাকি এর পিছনে আছে অন্য রহস্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *